বনি ইসরাইলের বারসিসা
বনি ইসরাইলের বারসিসা: শয়তানের ধাপে ধাপে ভয়ংকর প্রতারণা
বনি ইসরাইলের যুগে এক ছোট গ্রামে বারসিসা নামে একজন অত্যন্ত ধার্মিক ব্যক্তি বাস করতেন। তিনি ছিলেন সন্ন্যাসী প্রকৃতির মানুষ—সারাক্ষণ ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করতেন এবং ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর রাসুল হিসেবে মানতেন। গ্রামবাসীর কাছে তিনি ছিলেন চরিত্রবান ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
সে গ্রামে তিন ভাই ও তাদের এক বোন ছিল। একদিন ভাইদের জিহাদের জন্য ডাকা হলে তারা চিন্তায় পড়ে গেল—বোনকে একা রেখে যাবে কার কাছে? সবাই বারসিসার নাম প্রস্তাব করল। তবে প্রথমে বারসিসা রাজি হননি। তিনি আল্লাহর কাছে শয়তানের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইলেন, কারণ তিনি ভয় করতেন গুনাহে পড়ে যেতে পারেন।
কিন্তু শয়তান তার অন্তরে ধীরে ধীরে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করল—
“যদি মেয়েটি খারাপ কারো কাছে থাকে, তার ক্ষতির দায় কি তোমার নয়?”
মানবিক দয়ার কারণে বারসিসা শেষ পর্যন্ত মেয়েটিকে আশ্রয় দিতে রাজি হলেন।
প্রথমে তিনি মেয়েটিকে আলাদা ঘরে রাখতেন এবং দূর থেকে খাবার দিয়ে যেতেন। দেখা হতো না। কিন্তু শয়তান ধাপে ধাপে তাকে সামনে এগিয়ে নিল—কখনো দরজার সামনে খাবার রাখতে বলল, কখনো ঘরের ভেতর দিতে, এরপর কথা বলার অনুমতি দিল।
এইভাবেই ধীরে ধীরে শয়তানের ফাঁদ গভীর হতে লাগল।
এক সময় তারা একই ঘরে কথা বলতে শুরু করল। অবশেষে শয়তানের প্ররোচনায় বারসিসা বড় গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ল। মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে সন্তান জন্ম দিল।
এখন শয়তান নতুন ভয় দেখাল—
“এটা যদি প্রকাশ পায়, তোমার জীবন শেষ!”
ভয়ে পড়ে বারসিসা নবজাতক শিশুটিকে হত্যা করল এবং মাটিতে পুঁতে ফেলল। এরপর শয়তানের কুমন্ত্রণায় মেয়েটিকেও হত্যা করে একই জায়গায় দাফন করল।
যখন মেয়েটির ভাইরা ফিরে এলো, বারসিসা তাদের বলল—
“তোমাদের বোন অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।”
তারা তার কথা বিশ্বাস করল।
কিন্তু রাতে শয়তান তিন ভাইকেই একই স্বপ্ন দেখাল—
“বারসিসা তোমাদের বোনকে হত্যা করেছে। সত্য জানতে চাইলে তার ঘরের মেঝে খুঁড়ে দেখো।”
পরদিন তারা খোঁড়াখুঁড়ি করে সত্য উদ্ঘাটন করল। বোন ও শিশুর লাশ পাওয়ার পর বারসিসাকে ধরে রাজার কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেন।
শিরচ্ছেদের সময় শয়তান মানুষের রূপে এসে বলল—
“আমি তোমাকে এই অবস্থায় এনেছি, আর আমিই কেবল তোমাকে বাঁচাতে পারি।”
বারসিসা জিজ্ঞেস করল,
“কী করতে হবে?”
শয়তান বলল—
“আমাকে সিজদা কর।”
জীবন বাঁচানোর আশায় বারসিসা শয়তানকে সিজদা করল এবং কুফরিতে লিপ্ত হলো।
সিজদা শেষ হতেই শয়তান হেসে বলল—
“আমি তোমার থেকে মুক্ত। আমি আল্লাহকে ভয় করি—যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক।”
এই কথা বলেই সে চলে গেল। এরপর বারসিসার শিরচ্ছেদ করা হলো।
কিয়ামতের দিন বারসিসা উঠবে শয়তানের প্রতি সিজদার অবস্থাতেই—এটাই তার চূড়ান্ত পরিণতি।
কোন মন্তব্য নেই